নোয়াখালী
সরকারি কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে গত ২৯ এপ্রিল কলেজ
অধ্যক্ষের রুমে ছাত্রদলের উপস্থিতিতে সংঘটিত ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে
দুঃখ প্রকাশ করেছেন সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ছাত্র সংসদ কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংঘটিত ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করেন ছাত্রদল নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কলেজ ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান।
এসময়
উপস্থিত ছিলেন বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, সহ-সাধারণ
সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ
সম্মেলনে মুর্শিদুর রহমান রায়হান বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সাধারণ
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা সক্রিয় হলে কলেজের অধ্যক্ষ ও
কিছু গুপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে তাদের মনোমালিন্য তৈরি হয়। তিনি জানান, বৈরী
আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত কোনো কর্মসূচি না থাকলেও বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা
১১টা ৫৬ মিনিটে শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলের আহ্বানে তারা
কলেজে যান।
তিনি বলেন,
শিক্ষক পরিষদে আলোচনার পর তাদের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষে যেতে বলা হয়।
সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি উপস্থাপন করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে
ওঠেন এবং একপর্যায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেককে নিয়ে অশালীন
মন্তব্য করেন। এসময় তারা প্রতিবাদ জানালে উপস্থিত গুপ্ত শিক্ষকরা তাদের
ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে এবং তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে চান। পরে
তারা গুপ্ত শিক্ষকদের থামাতে গিয়েও ব্যর্থ হন। এতে শিক্ষকদের
ধাক্কাধাক্কিতে কক্ষের কয়েকটি ফুলের টব ভেঙে যায়, যা তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ও
দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি
আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাদের বিরুদ্ধে
অপপ্রচার চালানো হয়। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ তিন
নেতাকে বহিষ্কার এবং কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক
পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করে।
সংবাদ
সম্মেলন থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবিএম সানাউল্লাহকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী
লীগের দোসর দাবি করে তসর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়
এবং তার অপসারণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ২৯ এপ্রিলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের
জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতি তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা
বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা
করেন তারা।