সরকারের এই নির্বাচন যে সাজানো ও গোছানো এবং ভুয়া নির্বাচন তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান।
তিনি বলেন, আর এই সাজানো নির্বাচনের নাটকের শেষ অংশ আজ সকাল থেকে মঞ্চস্থ হচ্ছে।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি এই কথা বলেন।
দেশে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের রিপোর্টে প্রকাশ করে দিয়েছে, এই নির্বাচন একটি ভুয়া নির্বাচন বলে উল্লেখ করেন মঈন খান। তিনি আরো বলেন, গত ১ বছর ধরে আমরা বলে আসছি, বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে বর্জন করেছে। সেই কথাটি আজকে ভোট বর্জনের মধ্যে জনগণ দেশে-বিদেশে সবার সামনে প্রমাণ করেছে। সরকারের নির্বাচনের নাটক আজকে সারা বিশ্বে উন্মোচিত হয়ে গেছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনকারী ৬২ দল নির্বাচন বর্জন করছে বলেও দাবি করেন মঈন খান।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সকালের ভোট শুরুর পর থেকে আমরা বিভিন্ন ভোটে কেন্দ্রের ছবি সংগ্রহ করেছি। সেখানে যে শুধু ভোটার শূন্য তাই নয়, আজকে অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি, এই শীতের সকালে শত-শত ভোট কেন্দ্রের সামনে কুকুর রোদ পোয়াচ্ছে। এটাই আজকে বাংলাদেশে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন, তার বাস্তবতা। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি ভোট কেন্দ্রে মানুষ নয়, কুকুর-বিড়াল ভোট দেয়।
কিছু-কিছু ভোট কেন্দ্রের সামনে কিছু লোককে দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মঈন খান। তিনি বলেন, এটা দেখলে বোঝা যায়, তারা ভোটার নয়। আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষকে ভয়-ভীতি ও লোভ দেখিয়ে দাড় করিয়ে রেখেছে। এটা করে সরকার নিজেদেরকে প্রতারিত করতে পারবে, কিন্তু বিশ্বকে করতে পারবে না।
গত ৭৯ দিনে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে সরকার গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করেন জনাব মঈন খান। বলেন, কিন্তু আমাদের যে আন্দোলন সেটা থেকে সরাতে পারেনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। আমাদের সেই আন্দোলন সফল হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে রাস্তায় দাড়িয়ে লগি-বৈঠা আন্দোলন করে, মানুষ পুড়িয়ে মারে, সেটাতো বিএনপি করে না।
মানুষ কথা বলতে চায়, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায় ও তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়- আর এই তিনটির জন্য বিএনপি আন্দোলন করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মঈন খান। বিএনপির পরবর্তী আন্দোলন কি হবে তা আগামী ২-১ দিনের মধ্যে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান মঈন খান।