ঢাকা মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, মনিটরিং না থাকায় ঠকছেন ভোক্তা


স্মার্ট প্রতিবেদক
৬:২০ - মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, মনিটরিং না থাকায় ঠকছেন ভোক্তা

সিন্ডিকেটের কবলে খেজুর। রমজান শুরুর পর আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে খেজুরের দাম। মানভেদে খেজুরের দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুল্ক হ্রাসের পর খেজুরের দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু উল্টো দাম বেড়েছে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে গত বছরের মতো এবারও শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। তবুও খুচরা বাজারে দাম কমেনি। বরং বেশির ভাগ জনপ্রিয় খেজুরের দামই বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে সরকার বিভিন্ন খেজুরের দাম নির্ধারণ করে দিত। এ বছর সরকার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের নাম নির্ধারণ করে দেয়নি। ফলে আমদানিকারক থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম আদায় করছেন।

ভোক্তারা বলছেন, সরকার কোনো পণ্যের দাম বাড়ালে তা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়। আর কমালে তা কার্যকর হতে সময় লেগে যায় বেশ কয়েক দিন। অনেক সময় সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খেজুরের দাম নির্ধারণ না করে দেওয়ায় এ বছর আরও লাগামহীন। মর্জিমাফিক দাম আদায় করছেন ব্যবসায়ীরা। সঠিক দামে পণ্যটি বিক্রি করছেন কী-না তা যাচাই-বাছাই করারও যেন কেউ নেই। সাধারণ মানুষ অসহায় অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে।

জানা যায়, দেশে রমজানে খেজুরের মোট চাহিদা থাকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে অর্ধেক চাহিদা থাকে শুধু রমজানে। তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে ১০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছে, ডিসেম্বরে আমদানি হয়েছে ৫৬ হাজার টন এবং জানুয়ারিতে ৪ হাজার টন। এ ছাড়া আগের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। সব মিলিয়ে বাজারে চাহিদার পুরোটা অর্থাৎ ৮০ হাজার মেট্রিক টন খেজুরই মজুত রয়েছে। গত এক মাসে খুচরা বাজারে জাতভেদে খেজুরের দাম কেজিতে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খেজুরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এসব খেজুরের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আমদানি করেছে ২৫টি প্রতিষ্ঠান। ফলে দেশে খেজুরের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র দুই ডজন ব্যবসায়ী।

তাদের হাতেই জিম্মি ভোক্তারা। কিন্তু কাস্টমসে প্রদর্শিত আমদানিমূল্য, শুল্ক এবং পরিবহণ খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি খেজুরের গড় মূল্য দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা।

একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়- রমজানের আগে দাবাস খেজুরের দাম ছিল কেজি ৪৯০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। প্রথম রমজানে বিক্রি হয়েছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা। সোমবার বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকার বেশি দামে। রমজানের শুরুর দিকে বড়ই খেজুর ছিল ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা। এই খেজুর এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৪০ টাকা থেকে ৫৬০ টাকায়। কালমি খেজুরের দাম ছিল ৭০০ টাকা। সোমবার বিক্রি হয়েছে ৭৬০ টাকার বেশি দামে। সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম খেজুর ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দামও আগের তুলনায় কেজিতে ১০০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের খেজুর ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, আমদানিকারকরা খেজুরের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখানে খুচরা ব্যবসায়ীদের করার কিছু নেই। রমজানের পর হয়তো দাম কমতে পারে।