ঢাকা শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

হাতিয়ার টাংকির ঘাটে জলদস্যু আতঙ্ক, স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি


স্মার্ট প্রতিনিধি
৪:০৭ - মঙ্গলবার, জুন ১৩, ২০২৩
হাতিয়ার টাংকির ঘাটে জলদস্যু আতঙ্ক, স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরনী ইউনিয়নের বয়ারচর টাংকির ঘাট এলাকায় রামগতির তেলি রব জলদস্যু বাহিনীর আতঙ্কে র্নিঘুম রাত কাটাতে হয় স্থানীয়দের, এমন অভিযোগ সেখানকার বাসিন্দাদের মুখে মুখে। দস্যু বাহিনীর সদস্যদের নির্মূল করে সেখানে নোয়াখালী পুলিশের নিযন্ত্রণে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, হাতিয়ার টাংকির ঘাট এলাকাটি দীর্ঘ দিন থেকে জলদস্যুদের অভয়ারন্য ছিলো। দীর্ঘ ৩০ বছর এ এলাকায় কোন নির্বাচন না হওয়ায় হাজার হাজর মানুষ ছিল নির্যাতিত, অবেহলা আর বঞ্চনার শিকার। এলাকাটি নোয়াখালী-লক্ষীপুর জেলার সীমান্তে হওয়ায় রামগতির আবদুর রব ওরপে তেলি রব একটি বাহিনী গঠন করে দীর্ঘদিন থেকে চুুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি করে আসছে। তেলি রব টাংকির ঘাট দখল করে জোর পুর্বক এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করে। টাংকির ঘাটে সরকারি বাস স্টান্ড দখল করে অন্তত ৭০টি দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার নামে নিরীহ মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে তেলি রব। বিভিন্ন সময় অভিযানে তেলি রব বাহিনীর অনেক সদস্য পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের হাতে গ্রেফতারও হয়।
সম্প্রতি ওই এলাকায় ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হলে জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে স্বস্তি ফিরে স্থানীয়দের মাঝে। কিন্তু অত্যাচার কমেনা তেলি রব বাহিনীর। তেলি রব রামগতির প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তার রাজত্ব কায়েম রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা দস্যু তেলি রব বাহিনীর বিচার ও সেখানে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছে।
টাংকির ঘাটের ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, তেলি রব ছিলেন একজন শুটকি মাছ ব্যবসায়ী। সে রামগতির বাসিন্দা। ২০১০  সালে তেলি রব টাংকির ঘাট এলাকায় অবস্থান নিয়ে জলদস্যু বাহিনী ও রামগতির সন্ত্রাসীদের দিয়ে আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসীসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড শুরু করেন। সে সময়ে টাংকির ঘাটে টার্মিনালসহ দেড় কিলোমিটারের সরকারি রাস্তার ৫০ লাখ ইট তেলি রব বাহিনী লুট করে নেয়। ঘাটের সরকারি জায়গা দখল করে ৬২টি দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেয়। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে কয়েক দফায় গ্রেফতারের পর কিছুটা আড়ালে চলে যায় তেলি রব ও তার বাহিনীর সদস্যরা।
২০২২ সালের ১৫ জুন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টাংকির ঘাট এলাকার বাসিন্দারা হাতিয়ার হরণী ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচিত হন তাদের কাঙ্খিত জনপ্রতিনিধি। নির্বাচনের কয়েকদিন পূর্বে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম আইনশৃংখলা বজায় রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে গনসমাবেশ করেন। ওই সমাবেশে তিনি বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করলে তেলি রব তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে রাতের আধারে নদী সাঁতরে টাংকির ঘাট ত্যাগ করেন। এর পরই টাংকির ঘাটে ফিরে আাসে শান্তি।
সম্প্রতি তেলি রব আবারো টাংকির ঘাট দখলে নিতে নিজ বাহিনী এবং লক্ষ্মীপুরের প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। গত ১১ মে রাতে টাংকির ঘাটের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে লক্ষ্মীপুরের দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ফোর্স নিয়ে অবস্থান নেয়। ওই সময় হাতিয়া থানার পুলিশ সদস্যদের সরে যেতে বলেন তাঁরা। পরে স্থানীয় কয়েক হাজার বাসিন্দা ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে চার ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ টাংকির ঘাটে কোন হস্তক্ষেপ করবে না এমন শর্তে জনতার ঘেরাও থেকে মুক্তি পান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলেরা বলেন, হঠাৎ করে তেলী রব ও তার বাহিনীর সদস্যরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। তারা আমাদের নোয়াখালীর মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট বাজার দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। প্রতি রাতে আমাদের এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নদীতে নামলে তাদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। এজন্য টাংকির ঘাটে নোয়াখালী পুলিশের একটি স্থায়ী ক্যাম্প প্রয়োজন।
হরনী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন বলেন, আমরা বাহিনী মুক্ত থাকতে চাই। টাংকির ঘাট দখলে নিতে রামগতির পুলিশ জলদস্যু বাহিনী তেলি রবকে সহযোগিতা করছে। সে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। আমরা তার অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই। এখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে নোয়াখালী পুলিশের পক্ষ থেকে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করতে হবে।
হরনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতার হোসেন বলেন, বর্তমানে টাংকির ঘাট এলাকাটি নোয়াখালী জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রনে আসায় এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে যাতে কোন বাহিনী এখানে গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প প্রয়োজন। এজন্য আমার আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌসের কাছে আবেদন জানিয়েছি।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে এলাকাটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সব ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে সেখানে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের চিন্তা করা হচ্ছে।