

বিএনপির এই চার নেত্রীর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- বিএনপির
স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট-সদর আংশিক) আসনে
দলীয় মনোনয়ন চেয়ে শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে
সরে দাঁড়ান। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন এই নারী নেত্রী।
হাসনা
জসীমউদ্দিন মওদুদ পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের মেয়ে। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে
স্বামী ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদের ছেড়ে দেওয়া নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য
ছিলেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নোয়াখালীর
কোম্পানীগঞ্জে বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে হাসনা
জসীমউদ্দীন মওদুদ বলেন, মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছি। আমার স্বামী
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এবং আমি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকার মানুষের
সেবা করে আসছি। দল মূল্যায়ন করলে বাকি জীবন মানুষের সেবায় আরো বেশি করে কাজ করতে পারবো বলে আশাবাদী।
এদিকে,
দলের দুর্দিনে ঢাকার রাজপথে সরব থাকা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
শাহীনুর রহমান সাগরও সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন দৌঁড়ে আলোচনায় রয়েছেন।
সাগর ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নোয়াখালী
পৌরসভার করিমপুরের বাসিন্দা শাহীনুর রহমান সাগর ২০০১ সালে ইডেন কলেজ
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। আইন পেশা ও রাজনীতির কারণে ঢাকায় অবস্থান
করেন তিনি। ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও নোয়াখালীর রাজনীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এই নেত্রী। সেই থেকে ঢাকার
বাহিরে নোয়াখালীর রাজনীতিতেও আলোচনায় আসেন তিনি।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত
নারী আসনের মনোনয়নকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দুতে রয়েছেন- নোয়াখালী জেলা
মহিলা দলের সভাপতি ভিপি শাহনাজ পারভীন। তিনি নোয়াখালী মহিলা কলেজের ৯৪-৯৫
সালের নির্বাচিত ভিপি। তিনি জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ছাত্র ফোরামের সাবেক
যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১১ বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাংগঠনিক
সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সাত বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক
সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ভিপি শাহনাজ পারভিন জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক
সম্পাদকও ছিলেন।
সাবেক এই অ্যাথলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন।
শাহনাজ
পারভীন দলের দুর্দিনে দলীয়
আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলন করেছেন বলে জানান নেতাকর্মীরা
। তিনি জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস
করেন।
অপরদিকে, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেক নেত্রী ফৌজিয়া সাফদার
সোহেলী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সদস্য। নোয়াখালীর
হাতিয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে
উঠেন। তিনি হাতিয়ার প্রখ্যাত জমিদার ও দানবীর আলহাজ আজহার উদ্দিন মিয়ার
বংশধর। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য নিজ বাসভবন ছেড়ে
দেন তিনি। এছাড়া ঢাকার রাজপথে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সরব অংশগ্রহণ
ছিল বলে জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে ফৌজিয়া সাফদার
সোহেলী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ
করেছি। দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে বলে আশা করি। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি
হিসেবে জনগণের সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে চাই।
জেলা
বিএনপির সদস্য সচিব হারুন আর রশিদ আজাদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে
আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। দলের প্রধান যাচাই-বাছাই করে যাকে মনোনয়ন দেবেন,
আমরা তার পক্ষে কাজ করব।