

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বলেছেন, নোয়াখালীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা, যা পরিকল্পিতভাবে খাল খনন বা পুনঃখননের মাধ্যমে কার্যকরভাবে নিরসন করা সম্ভব। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে জলাবদ্ধতা সমস্যা আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে আশীর্বাদে পরিণত হতে পারে।
রোববার বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের বারেক মুন্সীর মোড়ে
খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব
কথা বলেন।
মো. শাহজাহান আরও বলেন, বর্তমান সরকার জলাবদ্ধতা
দূরীকরণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন
কর্মসূচি জোরদার করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট
সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
তিনি
বলেন, বৃষ্টির পানিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জলাবদ্ধতা সমস্যাকে সম্পদে
রূপান্তর করা সম্ভব। এজন্য সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর
গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোমায়রা ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার
(ভূমি) শাহনেওয়াজ তানভীরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-
জেলা বিএনপির আহবায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক
ফেরদৌসী বেগম, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোশরেফুল হাসান, সদর উপজেলা প্রকৌশলী
আবুল মনছুর আহমেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজী,
সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সলিম উল্যাহ বাহার হিরন, সাবেক সাধারণ
সম্পাদক ভিপি জসিম উদ্দিন প্রমূখ।
এসময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় উপকারভোগী জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে সদর উপজেলার চরমটুয়া, নোয়ান্নই, দাদপুর ও কালাদরাপ ইউনিয়নে ৪৩ দিনের কর্মসূচিতে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এই খাল খননের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এর প্রধান উপকারিতা হলো শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধার প্রসার, বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার প্রকোপ হ্রাস, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খালের নাব্যতা পুনরুদ্ধার হবে।