

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে প্রতিবারের মতো এবারও প্রশ্ন উঠছে- প্রার্থী তালিকায় নারীদের উপস্থিতি কেন সীমিত? সংরক্ষিত আসনের বাইরে সরাসরি নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার না পাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি, সামাজিক বাধা ও দলীয় কাঠামোর পুরুষতান্ত্রিক বাস্তবতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এমন অবস্থায় বিএনপিতে ৩০০ আসনের মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ১০, যা শতকরা হিসেবে ৩ শতাংশের কাছাকাছি। অপরদিকে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোতে কোনো নারী প্রার্থীই নেই।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন। ঢাকা-১৯ আসনের এনসিপি প্রার্থী দিলশানা পারুল জানান, দল থেকে মোট ৪৪টি আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন নারী। তিনি বলেন, জোটের হিসেবের কারণে আমরা আরো বেশি নারী প্রার্থী দিতে পারিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, নারী প্রার্থী কম হওয়ার মূল কারণ হলো ‘নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা’। দল নারী প্রার্থী দিতে চায়, কিন্তু জয়ী হওয়ার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা, অর্থ ও কর্মীবাহিনীর অভাবও এক ধরনের সমস্যা।
বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, দলের নারী প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশই ‘পুরুষ কোটায়’ এসেছেন, অর্থাৎ এমপি বা প্রভাবশালী পুরুষ নেতার পরিবারের কোনো কোনো নারী সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এগুলো পরিবারিক কারণে বরাদ্দ পাওয়া কোটা। পেশিশক্তি বা যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী নেতৃত্বকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
এদিকে, জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোতে কোনো নারী প্রার্থী না থাকা নিয়ে দলের নেতারা নিরাপত্তা, আগ্রহের অভাব এবং ধর্মীয় নিয়মকানুনকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, দলে কোনো নারী প্রার্থী করতে বিধিনিষেধ নেই। নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী নারীরা রাজনীতি করতে আগ্রহী হয় না।
অন্যদিকে, নারী প্রার্থিতা নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পুরুষ প্রভাবিত, যা মনোনয়ন বাণিজ্য, নির্বাচনী ব্যয় এবং সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, যেখানে জামায়াতের পুরুষ প্রার্থী শক্তিশালী, সেখানে নারী প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা কম। পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশই নারীদের জন্য প্রতিকূল।
রাজনীতি বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলেন, দলগুলো যেকোনো মূল্যে জিততে চায়। সেই কারণেই নারীদের মনোনয়ন কম দেওয়া হয়। তাদের অর্থ, সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি তুলনামূলক কম। ফলে জেতার সম্ভাবনাও কম। যে কারণে দলগুলো বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায় না। যদিও এটাও এক ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ। এই সংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেরিয়ে আসা উচিত।