ঢাকা বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত


স্মার্ট প্রতিবেদক
৯:২৪ - বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে।

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে হিজরি মাস রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

দিবসটি উপলক্ষে সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থান জাতীয় পতাকা এবং কালেমা তাইয়্যেবা লেখা রঙিন পতাকা ও ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কেরাত, নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবি খুতবা লেখার প্রতিযোগিতা।

এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশনেও যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হবে।

এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশের মুসলিমসহ বিশ্বের মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ঈদে মিলাদুন্নবীর পবিত্রতা ও মহিমাকে সামনে রেখে বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য এবং মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বর্তমান যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতায় বিপর্যস্ত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ ততধিক প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর এই পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়ে আসুন, আমরা তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করি এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে।

তিনি আরও বলেন, তার আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের শান্তি কামরা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।