

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনটির ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি এ দাবিকে ‘অগণতান্ত্রিক, অনৈতিক ও বেআইনি’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে হেফাজতে ইসলাম ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করে। ওই দাবির ৬ নম্বর দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে হেযবুত তওহীদ দেশের প্রচলিত কোনো আইন ভঙ্গ করেনি এবং কোনো বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন আকিদা, মাসআলা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মতপার্থক্য নতুন কোনো বিষয় নয়। এ ধরনের মতপার্থক্যের কারণে কোনো বৈধ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
বিবৃতিতে হেযবুত তওহীদের ইমাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর দাবি বা চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
তিনি দাবি করেন, হেযবুত তওহীদ একটি আইনমান্যকারী আন্দোলন এবং সংগঠনটির সদস্যদের মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।
বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম ও তাদের সংশ্লিষ্ট কিছু নেতার বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের বিষয়ে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগও করা হয়। এসব কর্মকাণ্ড দেশের শান্তিশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, হেযবুত তওহীদ মনে করে, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে আদর্শিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার প্রত্যেক নাগরিক ও সংগঠনের রয়েছে।