সাত বছর বয়সী ওমর ফারুক জন্ম থেকেই পায়ুপথহীন। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা তো
দূরের কথা, প্রতিটি দিন কাটে তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা
চালাতে গিয়ে এই দরিদ্র পরিবার তাদের গরু, আসবাবপত্রসহ সব সম্পদ বিক্রি
করেছে। এখন আর নেই কোনো সম্বল।
নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের চুলডগি গ্রামের ছোট্ট একটি
ঘরে প্রতিদিনই চলে বেঁচে থাকার লড়াই। দিনমজুর জয়নাল আবদীনের পরিবারে
দারিদ্র্য যেন নিত্যসঙ্গী। তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে ওমর ফারুক।
জন্মের
তিন দিনের মাথায় হঠাৎ করেই ওমরের পেট ফুলে যায়। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন
হলে জানা যায় জন্মগতভাবে তার পায়ুপথ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা
হয় ওসঢ়বৎভড়ৎধঃব অহঁং। ফলে প্রতিদিনই অস্বাভাবিক যন্ত্রণা আর সংক্রমণের
ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুটি।
শিশু ওমর ফারুকের মা রাবিয়া খাতুন
বলেন, জন্মের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক অপারেশনের
মাধ্যমে পেট কেটে সাময়িকভাবে মলত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়। তবে তাতে স্থায়ী
কোনো সমাধান মেলেনি। দ্বিতীয় ধাপের অপারেশনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে
পড়ে তারা। এখন শেষ ধাপের বড় একটি সার্জারি না হলে ছেলের জীবন আরও মারাত্মক
ঝুঁকির মুখে পড়বে। কিন্তু সেই চিকিৎসার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য তাদের
নেই। এ অবস্থায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে তাদের।
ওমর
ফারুকের বাবা জয়নাল আবদীন বলেন, আমার বাচ্চাটা সব সময় ব্যথায় থাকে। কষ্ট
দেখে সহ্য করতে পারি না। চিকিৎসা করানোর মতো কিছুই আর আমাদের নেই। তিন
সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে দিন চললেও ছোট ছেলের চিকিৎসা তাদের পুরো জীবন
ওলট-পালট করে দিয়েছে। ডাক্তাররা বলছে বড় একটা অপারেশন লাগবে। খরচ পড়বে
প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এত টাকা জোগাড় করার ক্ষমতা তাঁর নাই।
সন্তানের জীবন বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চান এই বাবা।
জয়নাল
আবদীনের প্রতিবেশীরাও বলছেন, গুরত্বর অসুস্থতা সত্ত্বেও পরিবারটি কখনো
ওমরকে অবহেলা করেনি। সামর্থ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত গিয়েই চিকিৎসা চালিয়েছেন
তারা। এখন আর কোনো উপায় না থাকায় মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয় কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ উল্যাহ সেলিম বলেছেন,
শিশু
ওমরের চিকিৎসায় শুরু থেকেই সহযোগিতা করেছেন তারা। তবে ওমর ফারুকের
সার্জারি অপারেশনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সমাজের সহৃদয়বানদের এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শিশু
ওমর ফারুক ফিরে পাক একটি সুস্থ জীবন, এমনটাই আজ জয়নাল আবদীনের পরিবারের
স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে সহৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই এখন তাদের একমাত্র
ভরসা।
আর্থিক সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: জয়নাল আবদীন, শিশু ওমর ফারুকের বাবা, বিকাশ (পারসোনাল): ০১৮৮৩৩৫৪৮২০, নগদ (পারসোনাল): ০১৮৪৫৮৯৬৯৪৪।