ঢাকা বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

সুবর্ণচরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে আহত


স্মার্ট প্রতিনিধি
১৫:৫৬ - বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬
সুবর্ণচরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে আহত

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় মোশাররফ হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নোমান বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম ওরফে দিদার মাঝিসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদাবাজি নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন মোশাররফ। অভিযোগ রয়েছে, দিদার মাঝি, তার ছেলে ইরাক, হৃদয়, সাঈদী, সাইফুল ও মহিউদ্দিনসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্র- কিরিচ, রামদা, লোহার রড ও হকিস্টিক নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তার মাথায় এলোপাতাড়ি কিরিচের কোপ দিলে মাথার তিনটি স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এছাড়া লোহার রডের আঘাতে তার ডান হাতের কবজির হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

আহত মোশাররফের দাবি, তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে রাস্তার পাশের পানিতে ফেলে রেখে যায়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তার মাথার তিনটি স্থানে যথাক্রমে ৮টি, ৫টি ও ৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর ভাই আব্দুল জব্বার বলেন, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার দাবি, মোশাররফকে স্থানীয় কৃষকরা মারধর করেছেন এবং তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

চরজব্বার থানার ওসি লুৎফুর রহমান জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।