ঢাকা রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, 'ভয়াবহ' হামলার হুমকি ট্রাম্পের


স্মার্ট আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
৭:২৬ - রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, 'ভয়াবহ' হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। প্রতিশোধ নিতে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলা চালায়, তাহলে ইরানের ওপর 'ভয়াবহ' হামলার হুশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

খামেনির সমর্থকদের রাস্তায় নামার খবর সরকারি বার্তা সংস্থায়:

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ঘোষণার পর তার কিছু সমর্থক রাস্তায় নেমে এসেছেন বলে খবর দিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থাগুলো।

মাশাদের ইমাম রেজার প্রাসাদের পতাকা শোকের রঙ্গে আচ্ছাদিত করা হয়েছে। ইরানের কিছু শহর ছাড়াও ইরাকের বাগদাদ ও কারবালা এবং কাশ্মীরে লোকজন জমায়েত হয়েছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর শুনে সূর্য ওঠার আগেই তেহরানে লোকজন রেভোলিউশন স্কয়ারের দিকে যেতে শুরু করে।

এটাও সত্যি যে খামেনির সমর্থকদের একটি বড় অংশকেই প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়নি। 

খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী পরিষদ সদস্যের প্রথম বার্তা:

গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান। তিনি এখন ইন্টেরিম কাউন্সিল বা অন্তর্বর্তী পরিষদের একজন সদস্য। এই পরিষদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার দায়িত্ব পালন করছে।

ইরনা জানিয়েছে, গোলাম হোসেইন মোহসেনি-ইজেই তার প্রথম বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘মুসলিম জাতির কোলে বড় হওয়া মহান মুজাহিদিনদের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে এমন অপরাধের মাধ্যমে কখনোই ব্যাহত করতে পারবে না’।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরানের সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের প্রধানদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তারাও গতকালের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন।

ইরানের সংবিধানের ১১১ ধারা অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরি সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবেন। 

‘আগে কখনো হয়নি এমন শক্তি প্রয়োগের’ হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা না করতে সতর্ক করেছেন।

নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন: “ইরান মাত্রই জানিয়েছে যে তারা আজ প্রচন্ড আঘাত হানবে, যা তারা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তারপরেও তারা যদি সেটা করে তাহলে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করবো যা আগে কখনো দেখা যায়নি!”

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলার হুমকি দেওয়ার পর ট্রাম্প এই বিবৃতি দিলেন।

"অধিকৃত অঞ্চল এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে,” কয়েক ঘণ্টা আগে তারা বলেছে। 

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে উঠলেন:

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে।

তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে।

এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন। এছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হয়।

এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কিনা অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কিনা, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেও তার মতামত দরকার হয়।

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে একদিকে শোক, অন্যদিকে আনন্দ করছে মানুষ:

ইরানের কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর উদযাপন করছে।

বিবিসি ফার্সি সার্ভিস গত রাতে কয়েকটি শহরে এমন উদযাপনের ভিডিও যাচাই বাছাই করে দেখেছে।

অন্যদিকে, রোববার সকালে রাস্তায় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতেও দেখা গেছে বলে ফার্সি সার্ভিস খবর প্রকাশ করেছে।

যদিও দেশটিতে এখনো খুব সকাল এবং দিন গড়ানোর সাথে সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।

মধ্য ইরানের ইশফাহান থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে লোকজন আনন্দ করছে ও গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে উল্লাস করছে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আতশবাজির আলোয় রাতের আকাশ আলোকিত এবং মানুষজন এক জায়গায় আগুনের চারপাশে জড়ো হয়েছে।

নিহত বিক্ষোভকারীদের কারো কারো পরিবারও রাস্তায় এবং নিজেদের বাড়িতে এ খবর উদযাপন করেছে।

তেহরানের কাছে কাজারেও লোকজন উল্লাস করছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অন্যদিকে, রাজধানী তেহরানের রাস্তায় খামেনির ছবি নিয়ে শোক প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে লোকজনকে। 

খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানালেন রেজা পাহলভী:

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির শেষ শাহ-এর (রাজা) নির্বাসিত পুত্র রেজা শাহ পাহলভী।

ওয়াশিংটন পোস্টে এক লেখায় তিনি প্রথমেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এই জন্য যে, তিনি ইরানের জনগণের উদ্দেশে বলেছিলেন, “তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।”

মি. পাহলভি লিখেছেন, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করেছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত উস্কে দিয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও সেগুলো বহনে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে ‘জঘন্য অপরাধ’ সংঘটিত হয়েছে দেশের ভেতরেই, যার মধ্যে আছে জানুয়ারিতে বিক্ষোভ দমনের সময় হাজারো প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার ঘটনা।

পাহলভির মতে, ইরানের ভবিষ্যৎ পথচলায় একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও গণভোটের মাধ্যমে তা অনুমোদন করা উচিত। এরপর প্রয়োজন ‘আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে’ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।

“ইতিহাস তার মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত খুব কমই আগাম ঘোষণা করে। কিন্তু এমন সময় আসে, যখন সাহস, নেতৃত্ব এবং সংহতি জাতির গতিপথ বদলে দিতে পারে,” লিখেছেন তিনি। 

খবর: বিবিসি বাংলা