ঢাকা সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

বাংলাদেশে যেভাবে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ


স্মার্ট প্রতিবেদক
১৫:২৮ - সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬
বাংলাদেশে যেভাবে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা, জ্বালানি বিক্রিতে সীমা আরোপ এবং নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান।

কেন বিদ্যুৎ সংকটের মুখে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং কয়লা- এই তিনটি জ্বালানির ওপর দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে বা সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে বাংলাদেশকে বেশি খরচে জ্বালানি আমদানি করতে হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি করে।

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ  প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বা উত্তেজনা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায় এবং জ্বালানি পরিবহনের সমুদ্রপথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর ফলে জাহাজ চলাচলে বিলম্ব এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বাংলাদেশও সেই প্রভাবের বাইরে নয়।


বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের পদক্ষেপ

এদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে চাপ কমাতে সরকার কয়েকটি অস্থায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ঈদুল ফিতরের ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশি পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুলগুলোকেও কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে এবং বেসরকারি কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রাবাস, ল্যাবরেটরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, তাই এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

যদিও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, তবুও দেশের জরুরি সেবাগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে। সরকারি অফিস, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। রমজানের ছুটির কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগেই বন্ধ ছিল, তাই নতুন নির্দেশনা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রভাবিত করেছে।


বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা

গত এক দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে দেশে ১৫০টিরও বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে, যার মধ্যে গ্যাসভিত্তিক, কয়লাভিত্তিক, তেলভিত্তিক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও প্রকৃত উৎপাদন অনেক সময় জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভর করে।

নিজস্ব উৎপাদনের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদেশ থেকেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি করে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেল ও এলএনজি আমদানি করে এবং আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করে। এসব আমদানি দেশের শিল্প, ব্যবসা ও গৃহস্থালির বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।