ঢাকা বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

তারাবি নামাজের নিয়ত, দোয়া ও মুনাজাত


স্মার্ট ডেক্স
৮:১০ - বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২৬
তারাবি নামাজের নিয়ত, দোয়া ও মুনাজাত

পবিত্র মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও রহমতের মাস। এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খল পরানো হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকে বিষয়গুলো প্রমাণিত। এ মাসের অন্যতম ইবাদত তারাবিহ নামাজ।

মুসলমানরা বছরে শুধু রমজানের এক মাস এ নামাজ আদায় করে থাকেন। তাই অনেকের এ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও মুনাজাত মনে থাকে না। তাই তারাবিহ নামাজের নিয়ত, দোয়া ও মুনাজাত তুলে ধরা হলো—

তারাবিহ নামাজ পড়ার নিয়ম

রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবিহ নামাজ পড়তে হয়। তারাবি নামাজ দুই দুই রাকাত করে পড়তে হয়। প্রত্যেক দুই রাকাতের পর সালাম ফেরানো হয়। এভাবে চার রাকাত পড়ার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও দোয়া ইসতেগফার পড়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন তাসবিহও পড়া উত্তম।

তারাবিহ নামাজের নিয়ত

ইসলামে নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ বা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা সঠিক নিয়তের সঙ্গে করতে হয়। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না, কারণ ইবাদতের মূল শর্তই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইচ্ছা। তাই তারাবিহ নামাজের জন্যও নিয়ত করা আবশ্যক। নিয়ত মনে মনে বাংলাতেও করা যায়। তবে আমাদের দেশে তারাবিহ নামাজের প্রচলিত আরবি নিয়ত রয়েছে। তাহলো-

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

তারাবিহ নামাজের নিয়ত আরবিতে করা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাতেও এভাবে নিয়ত করা যাবে যে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে (জামাত হলে- এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার। উল্লেখ্য, নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে উত্তম।

তারাবিহ নামাজের দোয়া

তারাবিহ নামাজে প্রতি চার রাকাত পর পর বিশ্রাম নেয়া হয়। এ সময় একটি দোয়া পড়ার প্রচলন রয়েছে। প্রায় সব মসজিদের মুসল্লিরা এই দোয়াটি উচ্চস্বরে পড়ে থাকেন। দোয়াটি হলো-

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

উচ্চারণ:
সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।

মনে রাখতে হবে, তারাবিহ নামাজ বিশুদ্ধ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এই দোয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এই দোয়া না পড়লে তারাবিহ নামাজ হবে না, কোনোভাবেই এমন মনে করা যাবে না। মূলত এ দোয়ার সঙ্গে তারাবিহ নামাজ হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

এ সময় চাইলে এ দোয়ার পরিবর্তে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়াই পড়া যাবে। ইসলামিক স্কলারদের মতে, তারাবিহ নামাজে চার রাকাত পর পর বিশ্রামের সময়টিতে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া, তওবা,-ইসতেগফারগুলো পড়াই উত্তম।

তারাবিহ নামাজের মুনাজাত

তারাবিহ নামাজের প্রতি চার রাকাত পর পর দোয়া করা যায়, আবার পুরো নামাজ শেষেও দোয়া করা যায়। তবে বর্তমানে দেশের মসজিদগুলোতে নামাজ শেষে দোয়া পড়া হয়। তারাবিহ নামাজের দোয়ার মতো বহুল প্রচলিত একটি মুনাজাতও রয়েছে। সেটি হলো—

اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার, বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বাররু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির- বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

উল্লেখ্য, আমাদের সমাজে অনেকে মনে করেন তারাবিহ নামাজ সঠিক নিয়মে আদায়ের জন্য নামাজ শেষে মুনাজাতে এই দোয়াটি পড়া আবশ্যক। এমন ধারণা বা বিশ্বাস মোটেও ঠিক নয়। তাই দোয়াটি পড়ার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তারাবিহ নামাজ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত পর পর পড়া দোয়াটির সঙ্গে তারাবিহ বিশুদ্ধ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।