

জন্ম
ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে বিশ^ব্যাপী প্রায় ২৬ কোটি মানুষ বৈষম্য ও বঞ্চনার
শিকার হচ্ছেন। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এই জনগোষ্ঠী সাধারণত ‘দলিত’ নামে
পরিচিত। আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবসে এই দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতি
বৈষম্য নিরসনে অবিলম্বে ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়ন’সহ ৮ দফা দাবিতে নোয়াখালীতে
মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (২৯
মার্চ) সকালে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত
জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন নোয়াখালী শাখার উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি
পালিত হয়।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত
জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন নোয়াখালী শাখার সভাপতি মিঠু কুমার দাস, সহ-সাধারণ
সম্পাদক দিলিপ কুমার, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র শীল,
জেলা শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক দিবাকর সরকার, সদস্য শুক্লা রাণী বৈঞ্চব
প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
সংগঠনের সভাপতি মিঠু
কুমার দাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এখনো নোয়াখালীতে বিভিন্ন
এলাকায় দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানুষ চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
স্কুল-কলেজ সংলগ্ন হোটেল ও চায়ের দোকানে তাদের একই পাত্রে খাবার পরিবেশন
করা হয় না, সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানেও মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়
না। চিকিৎসা, চাকরিসহ মৌলিক চাহিদাগুলোতে তাদের বঞ্চিত করা হয়। যা
মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মানববন্ধন থেকে দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর
প্রতি বৈষম্য নিরসনে অবিলম্বে ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়নসহ ৮ দফা দাবি তুলে
ধরেন তারা।
মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত ৮ দফা
দাবির মধ্যে রয়েছে, জাতপাত ও পেশাভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী
বিল-২০২২ সংশোধন করে দ্রুত পাস, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরিতে কোটা
প্রবর্তন, জাতীয় শুমারিতে দলিতদের পৃথক স্বীকৃতি, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ
বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ, শ্রমিক
স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদান, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত
করা এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
বক্তারা আরো বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তারা সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।