নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কলেজছাত্র জুবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) হত্যার ঘটনায়
জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে
এলাকাবাসী। একই সঙ্গে রাকিব হত্যা মামলাকে আড়াল করতে নিহতের স্বজনদের
বিরুদ্ধে দায়ের করা অগ্নিসংযোগের মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানিয়ে মামলাটি
প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার দক্ষিণ খানপুর জাকের
মার্কেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি
বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পাক-মুন্সিরহাট বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জাকের
মার্কেটে এসে শেষ হয়।
মানববন্ধন-পরবর্তী
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- নিহত রাকিবের বাবা প্রবাসী মোহাম্মদ
হানিফ, চাচা প্রবাসী মো. জসিম উদ্দিন, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল, মো. আবু
জাহের, মোহাম্মদ সুমন এবং যুব সংগঠক মোহাম্মদ আকরাম হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা
অভিযোগ করেন, স্থানীয় পাক-মুন্সিরহাট বাজার এলাকায় রাকিবের চাচার
নির্মাণাধীন একটি ভবনের কাজ চলছিল। বাবা মোহাম্মদ হানিফ ও চাচা জসিম উদ্দিন
প্রবাসে অবস্থানের সুবাদে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ তদারকি করতেন রাকিব। এ
সময় স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র, যার নেতৃত্বে ছিল মামুন বাহিনী, তার কাছে
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঈদুল ফিতরের সময় তাদেরকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া
হলেও পরবর্তীতে ঈদুল আজহার আগে পুনরায় চাঁদা দাবি করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের
অভিযোগ- এ বিরোধের জেরে গত ৩০ মে রাতে পাক-মুন্সিরহাট বাজার থেকে বাড়ি
ফেরার পথে রাকিব ও তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা রড দিয়ে
পিটিয়ে রাকিবকে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী
জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বক্তারা
আরও বলেন, ঘটনার পরদিন বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও
অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় রাকিব হত্যা মামলাকে দুর্বল করতে তার বাবা ও
চাচাকে আসামি করে একটি অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ
ভিত্তিহীন। তারা জানান, ঘটনার সময় রাকিবের বাবা বিদেশে ছিলেন এবং তার চাচা
আহত ভাতিজা রিমনকে নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
সমাবেশ
থেকে বক্তারা রাকিব হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি
নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি নিহতের স্বজনদের বিরুদ্ধে দায়ের করা
মামলাটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও নিহতের স্বজনরা অংশগ্রহণ করেন।