ঢাকা মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

নোয়াখালীতে ভূমি বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট, বৃদ্ধা আহত


স্মার্ট প্রতিনিধি
১৫:২৫ - মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬
নোয়াখালীতে ভূমি বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট, বৃদ্ধা আহত

নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় এবং পরিবারের নারী সদস্যদেরও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবদুল মতিন (৭২) নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে উপজেলার পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের মতিন ব্যাপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আবদুল মতিন পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মন্নাছের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৩৫), বাবু (২৫) ও নুর উদ্দিন (৪২), সেকান্তরের ছেলে তারেক (২২), নুর ইসলামের ছেলে আজিজুল হক (৬৫), সেকান্তরের ছেলে রাজু (২৪) এবং পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের হালিম ব্যাপারীর ছেলে সোহেল সালমান (২৩)’সহ ১৩-১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ দলকে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল মতিন অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে প্রায়ই তারা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলেও অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে তারা বসতবাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় আবদুল মতিনকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারক্তক আঘাত পান এবং হাতের হাড় ভেঙে যায়।

পরিবারের সদস্য নিপু আক্তার ও পান্না আক্তার হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর ও হেনস্তা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা নিপু ও পান্নার শরীরের স্বর্ণালঙ্কার এবং আবদুল মতিনের ব্যবসার নগদ টাকা লুট করে নেয়।

ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর খবর পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আহত আবদুল মতিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগী আবদুল মতিন বলেন, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় গত রোববার (০১ মার্চ) সুধারাম মডেল থানায় উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আজ (মঙ্গলবার) আদালতে মামলা করি। 

এদিকে ভুক্তভোগী আবদুল মতিনের ভাতিজা আবির হোসেন আব্বাস অভিযোগ করে বলেন, তার জেঠা আদালতে মামলা করার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সন্ত্রাসী সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে অপরাপর সন্ত্রাসীরা তাদেরকে পুনরায় ভয়ভীতি ও হুমকি- ‍ধুমকি প্রদর্শন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাহাব উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে ফোনে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।