নোয়াখালীর সুবর্ণচরে যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন নির্যাতনের
শিকার এক গৃহবধূ আদালতে মামলা করে এখন উল্টো হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতায়
ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শাহেনা বেগম তাঁর স্বামী জিহাদ উদ্দিন ও
শ্বশুর করিমুল মোস্তফার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে ঢাকার বিজ্ঞ চীফ
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর
পারিবারিকভাবে শাহেনা ও জিহাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ এক লাখ টাকা ও
প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। বিয়ের পর সুবর্ণচরের
দক্ষিণ চর মজিদ এলাকায় তাদের সংসার শুরু হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই
স্বামী ও শ্বশুরের পক্ষ থেকে যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২০২২ সালে
চাপের মুখে পড়ে শাহেনার পরিবার ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিতে বাধ্য হয়।
এরপরও থামেনি দাবিদাওয়া। বিদেশে যাওয়ার অজুহাতে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা
হয়। টাকা দিতে না পারায় শাহেনার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এক
পর্যায়ে শিশু সন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে
সালিশের মাধ্যমে শাহেনার বাবা ঋণ নিয়ে ৩ লাখ টাকা দেন জিহাদকে বিদেশে
পাঠানোর জন্য। ২০২৩ সালে জিহাদ প্রবাসে গেলেও এরপর স্ত্রী-সন্তানের কোনো
খোঁজখবর নেননি।
ভুক্তভোগীর
পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শাহেনা তার বাবার বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন
করছেন। সম্প্রতি গত বছরের ২০ নভেম্বর আবারও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন
জিহাদের বাবা করিমুল মোস্তফা। টাকা না দিলে তালাক দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
শাহেনার
বাবা এনায়েত হোসেন বলেন, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বারবার যৌতুক দিয়েছি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়ের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এখন মামলা করায় উল্টো
হুমকি পাচ্ছি।
ভুক্তভোগী
শাহেনা বেগম অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকে প্রতিনিয়ত শ্বশুরবাড়ির লোকজন
আমাকে ও আমার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা এখন
নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত জিহাদ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার বাবা করিমুল মোস্তফা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
যৌতুকের
বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করতে গিয়ে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা- এটি সমাজ ও
আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত
হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।