নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)
হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের
ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ২৫০ শয্যা
বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব
পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে
জানা গেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)
সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল, ভাষা
শহীদ আবদুস সালাম হল ও পকেট গেট এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষ ও
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আহতদের
মধ্যে রয়েছেন নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও
পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত,
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম
ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক
সম্পাদক আরিফ হাসান।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আবদুল মালেক উকিল হলের একটি
কক্ষের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের
মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের
সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে
সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের বিরোধে রূপ নেয়।
অভিযোগ
রয়েছে, একপর্যায়ে সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীরা বহিরাগতদের নিয়ে হলে
গিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ
সম্পাদকপন্থীদের একটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পরে সালাম ও মালেক হলের
বিভিন্ন কক্ষেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে
সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকপন্থী নেতাকর্মীরা সাব্বির
গ্রুপের অনুসারীদের ধাওয়া দেন। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া অডিটোরিয়াম এলাকা থেকে
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পর্যন্ত গড়ায়। সেখানে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে
পড়লে কয়েকজন আহত হন।
নোবিপ্রবি
ছাত্রদলের একাধিক নেতা দাবি করেন, এটি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের
সঙ্গে বহিরাগতদের সংঘর্ষ। তাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের এক নেতা বহিরাগতদের
নিয়ে এসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।
ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
এদিকে
ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত
কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার
হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল
হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ আগস্ট রাতে ও ১৮ আগস্ট সংঘটিত ঘটনাগুলো তদন্ত
করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক,
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য এবং প্রক্টর
অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। আগামী তিন
কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নোবিপ্রবির
উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাদের
শাস্তির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জোরদার করা হয়েছে।