

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলাকেটে হত্যার
ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে
বিকারগ্রস্ত। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে
পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ভোররাতে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬
নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে
থাকতেন। আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি
বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে তার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। রাতে তিনি ওই
দোকানেই ঘুমাতেন।
প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে
পড়ে লাইলি বেগমের বাম হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে
পারছিলেন না। ফলে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের
ঘরে থাকা লাইলির শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার
রাত ১১টার দিকে লাইলি বেগম তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে নিজ
কক্ষে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরা বেগমের ঘরে খাবার
খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। এরপর লাইলি ও তার ছেলে সৌরভ নিজ নিজ কক্ষে
ঘুমিয়ে পড়েন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে
উঠে তার মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে
বিষয়টি তিনি তার দাদি তফুরা বেগমকে জানান। তফুরা ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ
দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
এরপর
সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার
মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর তার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশের
প্রাথমিক তথ্যমতে, লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে
গুরুতর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া বাম হাতের
কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে ছেলা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবর
পেয়ে সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে
ঘটনাস্থলে যান। তিনি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ
ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ
ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব
ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জেলা
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার
এসআই সুমন বণিক বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা
করা হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার
দাদি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,
সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। আর হত্যাকাণ্ডের আলামত লোপাটের
চেষ্টার অভিযোগে তফুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত
কারণ এখনো জানা যায়নি।’