ঢাকা বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬


https://www.ajkerbazzar.com/wp-content/uploads/2025/06/728X90_Option.gif

বেগমগঞ্জের বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে এবার দুদকে অভিযোগ


স্মার্ট প্রতিনিধি
৯:১৯ - বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
বেগমগঞ্জের বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে এবার দুদকে অভিযোগ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দায়িত্বে অবহেলা, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া এবং উৎকোচ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ৮ আগস্ট নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলার বেতুয়া বাজার এলাকার গোপালপুর ইউনিয়নের মমিনুল ইসলাম পিজন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সামছুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় বন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সেনবাগ উপজেলার বন কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করছেন।

অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং বন অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিও দেওয়া হয়। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দেওয়া হলেও তখনও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সামছুদ্দিনের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অনিয়ম নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। পরে সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি আর এগোয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগে সামছুদ্দিনের সম্পদের বিষয়ে বলা হয়েছে, বেগমগঞ্জের কালিকাপুর বাজার এলাকায় তার পৈতৃক ভিটা রয়েছে। সেখানে প্রায় ২২ শতাংশ জমি এবং বগাদিয়া-কালিকাপুর বাজারসংলগ্ন সড়কের পাশে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি কেনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগকারীর দাবি, ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া কালিকাপুরের পৈতৃক জমিতে তিনি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করছেন। মাইজদী শহরের দীঘিরপাড় আবাসিক এলাকায় ‘আপন নিবাস’ নামে একটি ফ্ল্যাটে তিনি বসবাস করেন এবং এর পাশেই কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট কেনার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি খাল দখল করে ওই জমিতে যাতায়াতের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও ক্রয়ের অর্থের উৎস সম্পর্কে অভিযোগে যেসব দাবি করা হয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে সোনাইমুড়ীর বজরা ইউনিয়নের ছনগাঁও এলাকায় সামাজিক বনায়নের প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে নূর নবী শিপন ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে বন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বনপ্রহরী লিপন বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ২০টি গাছ কাটার বিষয়টি দেখতে পান। পরদিন সামছুদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও পরে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

এছাড়া ২০২৩ সালের আগস্টে সেনবাগের কাদরা ইউনিয়নের হিজলী এলাকায় সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫০টি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে গাছগুলো তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মবহির্ভূতভাবে সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ এবং মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

নোয়াখালী বন বিভাগের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলায় দায়িত্ব পালন করার কারণে সামছুদ্দিনের প্রভাব রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে বিভিন্নভাবে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে বলে ওই কর্মচারী দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা এ এস এম সামছুদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে এসব অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বেগমগঞ্জ বন কর্মকর্তা সামছুদ্দিন দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে এ জেলায় চাকরি করছেন, এটা সত্য। তবে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

নোয়াখালী দুদকের উপপরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে অনিয়ম ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।