পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) নবীন
শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরিবেশের সঙ্গে সহজে অভিযোজন এবং সফল
ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘Developing the Mindset for Successful Journey’ বা
‘সফল জীবনের জন্য মানসিকতা তৈরি’ শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত
জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.
এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
প্রধান
অতিথির বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.
এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের
সময় নয়; এটি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার
গুরুত্বপূর্ণ সময়। জীবনে ফিক্সড মাইন্ডসেট ও গ্রোথ মাইন্ডসেট- এই দুই ধরনের
মানসিকতা দেখা যায়। ফিক্সড মাইন্ডসেট মানুষকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে আটকে রাখে।
অন্যদিকে গ্রোথ মাইন্ডসেট বিশ্বাস করে, কঠোর পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা ও
শেখার আগ্রহের মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতিও জয় করা সম্ভব।
তিনি
বলেন, পবিপ্রবির প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ইতিবাচক ও গ্রোথ মাইন্ডসেট
তৈরি করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি দিনকে কাজে লাগাতে হবে।
পটুয়াখালী-বরিশাল অঞ্চল নদী-খাল ও জলাশয়ে পরিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি নবীন
শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখারও পরামর্শ দেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর
আরও বলেন, দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক
সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মনোভাব গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নতুন পরিবেশে সহজেই
নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে
লাইব্রেরি ব্যবহার, গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি ও বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের ওপর
গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির
যুগে নিজেকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি
দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ডিবেটিং সোসাইটি, সাংস্কৃতিক
সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ
দেন তিনি। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগতভাবে কাজ
করার মানসিকতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও
উল্লেখ করেন।
সেমিনারে আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর ড.
মাহবুব রব্বানী ও অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. নেছারউদ্দিন আহমেদ নবীন
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপদেশমূলক বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া
কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন ও প্রো-ভাইস
চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার প্রফেসর ড.
মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এগ্রিকালচার অনুষদের ডিন প্রফেসর এম. জহুরুল হক,
বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের প্রফেসর আবুল বাশার খান, ফিশারিজ অনুষদের
ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হক, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার
ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নুরুল আমিন এবং ল অ্যান্ড
ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের মো. আব্দুর রহিম।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।