

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে উল্টো দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার আসামি হয়েছেন মো. ছালেহ উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি বিএনপি পরিবারের সদস্য হওয়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়।
অভিযুক্ত মামলার বাদী মো. জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যপুকুর উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে ভুক্তভোগী মো. ছালেহ উদ্দিন একই এলাকার বাসিন্দা এবং এস.এস কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী।
জানা যায়, পন্টন ক্রয় ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালি সরবরাহের জন্য জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন ঠিকাদার ছালেহ উদ্দিন। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরুর জন্য তিনি জাহাঙ্গীরকে ৩২ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। তবে জাহাঙ্গীর মাত্র ১০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করে এস.এস কর্পোরেশনের স্বাক্ষরকৃত কয়েকটি প্যাড নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে বাকি টাকা ফেরত চাইলে উল্টো ২০২৩ সালের জুন মাসে ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন জাহাঙ্গীর আলম।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছালেহ উদ্দিন বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হই। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলার এক আইনজীবীর যোগসাজশে জাহাঙ্গীর আমাকে ফাঁসাতে এই মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (0১ জানুয়ারি) মামলাটির বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে ‘অপরাধ দমনে মানবাধিকার সংস্থা’-এর একটি দল। সংস্থাটির জেলা তদন্ত কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর আলম এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি স্থানীয় উত্তর কচ্ছপিয়া মসজিদের উন্নয়ন কাজের প্রায় ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার বাবা ছেরাজল হক জানান, ছেলের ব্যবসা বা দেনাপাওনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। লোকমুখে শুনেছেন ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছে, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তিনি কখনো ছেলের সঙ্গে কথা বলেননি।
ভুক্তভোগী ছালেহ উদ্দিন আরও জানান, তার পাওনা ২২ লাখ টাকা আদায়ের জন্য তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে পিআইবি তদন্তাধীন। অথচ মামলার বাদী পলাতক থাকলেও মিথ্যা মামলার কারণে তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন এবং নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ থেকে মুক্তি পেতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।